উকুন হলে সত্যিই খুবই বিরক্তিকর লাগে। সারাক্ষণ শুধু মাথা চুলকায় আবার উকুন নাম শুনলেই ঘিন ঘিনও করে। উকুন মূলত পঁচা খাদক মানে এরা ময়লা খায়। এরা সাধারনত চামড়ায় থাকে।
বাসস্থানঃ এরা বিভিন্ন প্রাণির গায়ে থাকে। তবে বেশির ভাগ প্রজাতির উকুন প্রাণির সুনির্দিষ্ট অংশে বাস করে। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার প্রজাতির উকুনের সন্ধান পাওয়া গেছে । দেহে সাধারণত ২-৬ ধরেনের উকুন থাকে। প্রাণিভেদে তা ভিন্ন ও হয়। মানুষের মাথায় এবং পিউবিক অঞ্চলে ভিন্ন ধরনের উকুন বাস করে। উকুনকে তার আশ্রয়দাতার শরীর থেকে সরিয়ে নিলে সাধারনতঃ বেশি সময় বাঁচে না।
মানবদেহে উকুন আক্রমনকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
1. মাথার উকুন (Pediculosis capitis)
2. শরীরের উকুন (Pediculosis corporis) (Pediculosis vestimenti, Vagabond’s disease ও বলা হয়)
3. পিউবিক অঞ্চলের উকুন (Pediculosis pubis) (Crabs)
উকুনকে খুবই সাধারণ ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করা হয়, একে মোটেও রোগ হিসেবে মনে করা হয় না। অথচ এটা অজানা যে উকুনের কারণে টাইফাস নামের একটি জটিল রোগ হতে পারে।
কেন উকুন হয়?
উকুন সাধারণত তাদেরই হয় যাদের হাইজেনিক কন্ডিশন ভালো না এবং যারা ওভার ক্রাউডিং থাকে, তাছাড়া যারা পরিচ্ছন্ন থাকেন না। বিশেষ করে নিয়মিত গোসল করেন না। গোসল করলেও যারা মাথার চুল ভালো ভাবে শাবান বা শ্যাম্পু দিয়ে পরিস্কার করেন না অর্থাৎ মাথায় একটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে; তাদের চুলে উকুনের প্রভাব বেশি হয়।
তিন ধরনের উকুন হতে পারে-
প্রথমত এটি মাথা হয়, আমরা এটাকে বলি Tinea capitis
শরীরে একধরনের উকুন হয় এটাকে বলা হয় Tinea corporis
তৃতীয় ধরনের উকুন হয় , যাকে – Pediculosis pubis বলে । মানে, তলপেটে পিউবিক অঞ্চলে হয়।
কিভাবে দূর করবেন
উকুন সহজে মাথা থেকে যেতে চায় না। কিন্তু কিছু ঘরোয়া উপায় আছে যার মাধ্যমে মাথা থেকে উকুন দূর করা সম্ভব। আসুন জেনে নেই উপায়গুলো কি কি
১। ভিনেগার
ভিনেগার দিয়ে খুব সহজে উকুন দূর করা সম্ভব। এতে অ্যাসিটিক এসিড আছে যা উকুন দূর করতে সাহায্য করে। ভিনেগার আর পানি মিশিয়ে নিন। তারপর সেটি মাথায় লাগান। ১০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন।
২। নারকেল তেল
উকুন দূর করার ক্ষেত্রে নারকেল তেল অনেক ভাল কাজ করে থাকে। নারকেন তেল উকুনদের শ্বাসরোধ করে দেয় ফলে উকুনরা বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। ৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল এবং খুব সামান্য কর্পূর মিশিয়ে নিন। তেলটি মাথায় ভাল করে ম্যাসাজ করুন। এরপর শাওয়ার কাপ দিয়ে মাথা ঢেকে দিন। পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। শুঁকিয়ে গেলে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান। দেখবেন উকুন চলে যাচ্ছে। এটি সপ্তাহে ৩ থেকে ৫ দিন করুন। দেখবেন উকুন গায়েব হয়ে গেছে।
৩। পেঁয়াজ
পেঁয়াজের রসে সালফার আছে যা উকুন দূর করে থাকে। ৪/৫ টা পেঁয়াজের রস করে নিন। এরপর তা মাথায় ভাল করে লাগিয়ে নিন। ২ ঘন্টা পর কুসুম গরম পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল শুকানোর পর চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান, দেখবেন উকুন সব চিরুনিতে চলে এসেছে।
৪। লেবুর রস
লেবুর রস উকুন দূর করতে বহুল ব্যবহৃত একটি উপায়। লেবুর রস মাথায় ভাল করে লাগান। ৩ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্রথমে ভিনেগার দিয়ে পড়ে কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একবার করুন। উকুন আপনার মাথা থেকে দূরে থাকবে। লেবুর রসের সাথে আদার পেষ্ট মেশান। এটি মাথায় ভাল করে ম্যাসাজ করুন। একটি তোয়ালে দিয়ে মাথা পেঁচিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে ২/৩ বার করুন। যদি উকুনের সমস্যা অনেক বেশি থাকে তবে এটি সপ্তাহে ৫ বার করুন।
৫। নিম
নিম হল প্রাকৃতিক প্রতিষেধক, যেটি উকুন দূর করতে অনেক বেশী কার্যকর। এটি মাথার চুলকানিও কমাতে সাহায্য করার সাথে সাথে স্কাল্প ময়েশ্চারাইজ করে থাকে। নিমের পেষ্ট করে সেটি চুল আর মাথার তালুতে লাগান। এটি সপ্তাহে দুবার করুন। নিমের তেল ব্যবহারেও চুল থেকে উকুন দূর করা সম্ভব। ভাল করে মাথার তালুতে নিমের তেল ম্যাসাজ করুন। এক ঘণ্টার পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে তিন বার করুন দেখবেন খুব
৬। এলাইস লোশন
বাংলাদেশের স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিমিটেড (কোম্পানি) এর একটি অসাধারণ প্রোডাক্ট এটি। এই লোশনের প্রাইজ মাত্র ১৩০ টাকা। এটা আপনি সাধারনত মেডিসিন এর দোকানে পাবেন। এটা ব্যবহারের নিয়ম এই লোশনের ভেতরের নির্দেশিকায় রয়েছে। সুতরাং নির্দেশিকা একটু ভালোভাবে পড়লে সবকিছু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন এবং ভালো উপকার পাবেন বলে আশা করি।
.jpeg)