হিমালয়ান পিংক সল্ট

 



লবন মানবদেহে অত্যন্ত জরুরি একটি উপাদান। কিন্তু তা পরিমিত মাত্রায় হলে তবেই স্বাস্থ্যসম্মত হয়। আমরা সাধারণত খাবারে বা রান্নার সময় যে লবন ব্যবহার করি তা পরিশ্রুত লবন। অর্থাৎ বিশুদ্ধ সোডিয়াম ক্লোরাইড!!!


প্রাকৃতিক লবন থেকে সমস্ত মিনারেল ছেঁটে ফেলে দেয়া হয় এতে। অথচ এই প্রাকৃতিক মিনারেল আমাদের শরীরের পক্ষে অত্যন্ত দরকারি।


তা হলে কী ভাবে আমরা এই ঘাটতি পূরণ করব? উত্তর একটাই প্রাকৃতিক লবন থেকেই একমাত্র এই মিনারেল সংগ্রহ করা সম্ভব।


পিঙ্ক হিমালয়ান ক্রিস্টাল সল্টের কথা নিশ্চই আগে শুনেছেন। হিমালয়ান পিংক সল্ট পৃথিবীতে পাওয়া সবচেয়ে বিশুদ্ধ লবণ যা বিষাক্ত ও দূষিত পদার্থ মুক্ত। এই লবণ হিমালয় পর্বত থেকে তৈরি হয় এবং সেখানে এটি “হোয়াইট গোল্ড” নামে সুপরিচিত। এই লবণের অনন্যতার কারণ হচ্ছে এর গোলাপি বর্ণ যা আয়রন অক্সাইডের উপস্থিতির জন্য হয়ে থাকে। একারণে এ লবণকে “পিংক সল্ট” ও বলা হয়।


প্রধানত হিমালয়ান সল্ট সোডিয়াম ক্লোরাইড নিয়ে গঠিত। তবে এতে সালফেট, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস, কপার, জিংক, সেলেনিয়াম, আয়োডিন এবং ফ্লোরাইডসহ প্রায় ৮০টির মত উপাদান থাকে। এই লবণের খনিজ উপাদানগুলো আঠালো গঠনে থাকে এবং মানুষের শরীরের কোষে খুব সহজেই শোষিত হতে পারে। খনিজ লবণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এই লবণ শরীর ও মনের নিরাময়ে বিস্ময়কর ভাবে কাজ করে। যে নুন আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকাতে থাকে তার চেয়ে এই নুন হাজার গুন ভালো। তবে আজ নয়, পৃথিবীর জন্মের আদিলগ্ন থেকে এই নুন রয়েছে প্রকৃতির মধ্যে। সাধারণ নুনের চেয়ে হিমালয়ান নুন এমনিই বলা হয় স্বাস্থ্য উপযোগী। তবে এই নুনের পিছনে ছোট্ট একটা ইতিহাস রয়েছে। লক্ষ লক্ষ বছর আগে এভারেস্ট থেকে একপ্রকার যৌগ এসে মেশে সমুদ্রের জলে। দীর্ঘদিন ধরে তা জমতে জমতে গোলাপি ক্রিস্টাল কণায় পরিণত হয়। এর মধ্যে পটাশিয়াম, সালফেট, জিঙ্ক, কপার, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা প্রভৃতি ছাড়াও ৮৪ রকমের খনিজ রয়েছে। ফলে এর গুণাগুণও অনেক বেশি। হিমালয়ান সল্ট বিশেষভাবে সমাদৃত। শুধু এ দেশেই নয়, বিদেশেও বহু মানুষ এই লবন মিশ্রিত পানি খেয়ে উপকার পেয়েছেন এবং পাচ্ছেন। সকালে খালিপেটে এই পানির উপকারিতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।


কিন্তু এটা বানানোর একটা পদ্ধতি রয়েছে। আসুন জেনে নেই কী ভাবে বানাবেন এই লবন-পানির মহা ঔষধ।

• প্রথমে এক লিটার পরিমান বিশুদ্ধ খাবার পানি বলক তুলে বা ভালভাবে ফুটিয়ে ঠান্ডা করবেন এবং একটি পরিষ্কার কাঁচের জারে ফোটানো ঠান্ডা করা পানি ঢেলে নিবেন।

• এ বার তাতে ১০০ গ্রাম পরিমান হিমালয়ান লবন ঢেলে দিয়ে ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ স্থানে রেখে দিন।

• যখন দেখবেন আর লবন পানি দ্রবীভূত হচ্ছে না তখন বুঝবেন আপনার সলিউশনটি প্রাথমিকভাবে তৈরি হয়েছে।

• পড়ে থাকা লবন ছেঁকে ফেলে লবন-পানি ভরা জারটি ফ্রিজে রেখে দিন।

• প্রতি দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালিপেটে জার থেকে এক থেকে দুই টেবিল চামচ পানি নিয়ে তা এক গ্লাস পরিষ্কার পানিতে মেশান ও সেবন করুন। এই পানি ‘SOLE’ (সোলে) নামে পরিচিত। তবে এই দ্রবণটি তৈরি করার সময় ধাতব ঢাকনা বা চামচ ব্যবহার করবেন না।


 এর উপকারিতা জানলে অবাক হতে হয়। প্রতিদিন যদি একবার এই নুন খাওয়া যায় তাহলে যা হবে-

১। শ্বাসতন্ত্রের রোগ থেকে মুক্তি দেয়।

সাইনুসাইটিস, অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস বা অ্যালার্জি থেকে নিরাময়ে সাহায্য করে হিমালয়ান সল্ট। শ্বসনতন্ত্রকে পরিষ্কার হতে ও ক্ষতিকর পদার্থ বাহির হয়ে যেতে সাহায্য করে। এই লবণের অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান অতিরিক্ত মিউকাসকে নরম ও আলগা হতে সাহায্য করে এবং মিউকোসিলিয়ারি পরিবহণের গতি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই লবণের উপাদানগুলো ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যুকে নিরাময়ে সাহায্য করে। গরম পানিতে পিংক সল্ট দিয়ে এর ভাপ নিন।   


২। শরীরের তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে।

হিমালয়ান পিংক সল্টে বিভিন্ন ধরণের ইলেক্ট্রোলাইট থাকে যা শরীরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরের কোষগুলোর কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।


৩। শরীরকে বিষমুক্ত হতে সাহায্য করে।

হিমালয়ান সল্ট গোসলের পানিতে ব্যবহার করলে শরীরের কোষগুলো পুনরুজ্জীবিত ও বিষমুক্ত হয়। এই লবণের খনিজ উপাদানগুলো পানিতে স্থানান্তরিত হয়। তাই যখন এই পানি দিয়ে গোসল করা হয় তখন শরীরের কোষ ও রক্তস্রোত থেকে বিষাক্ত পদার্থ বাহির হয়ে যায়।


৪। পরিপাক নালীকে পরিষ্কার করে। 

প্রাকৃতিকভাবে পরিপাক নালীকে পরিষ্কার হতে সাহায্য করে পিংক সল্ট। এটি জোলাপ হিসেবে কাজ করে এবং পরিপাক তন্ত্রের জমে থাকা টক্সিনকে বর্জ্য পদার্থ হিসেবে বাহির হয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্য করে।


৫। শরীরের pH এর ভারসাম্য রক্ষা করে।

হিমালয়ান সল্ট শরীরের ক্ষারীয় অবস্থা বজায় থাকতে সাহায্য করে। এটি দেহের তরলের হাইড্রোজেন আয়নের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। সীসা, মার্কারি ও আর্সেনিকের মত ভারী ধাতু শরীর থেকে বাহির করে দিতে সাহায্য করে।


৬। হিমালয়ান সল্ট দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।


৭। ব্লাড সুগার স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।


৮। পেশীর সংকোচন প্রতিরোধ করে।


৯। ত্বকের প্রদাহ কমতে সাহায্য করে।


১০। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।


১১। মাসল ক্র্যাম্প কমায়।


১২। শরীরে বিভিন্ন জয়েন্ট বা গাঁট-কে সুস্থ রাখে।


১৩। হাঁড় ভালো রাখে।


১৪। ঘুম ভালো হয়।


১৫। হজমশক্তি বাড়ে।


১৬। যৌন ক্ষমতা বাড়ায়।


১৭। মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।


১৮। বলিরেখা কমায়।


১৯। এনার্জিতে ভরপুর রাখে।


২০। সোডিয়াম সালফেট সমৃদ্ধ ঔষধী গুণের এই লবণ রূপ চর্চার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।


এছাড়াও আরো অনেক গুনাগুন আছে যা আপনি নিয়মিত সেবনে নিজেই বুঝতে পারবেন।

Abu Naeem

হায়, আমি আবু নাঈম! আমি জ্ঞান সম্পর্কে জানতে এবং জানাতে ভালবাসি। facebook

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

কুকিজ সম্মতি

এই ওয়েবসাইটটি আপনাকে একটি ভালো ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা দিতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমাদের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে, আপনি কি কুকিজ ব্যবহারে সম্মত আছেন?

আরও জানুন