হেলো বন্ধুরা, প্রথমে জেনে নেই কে এই জ্যাক মা, বন্ধুরা জ্যাক মা হলেন জনপ্রিয় ইকমার্স ওয়েবসাইট alibaba.com এর কর্ণধার, এবং তিনি আলিবাবা গ্রুপের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান ও CEO ছিলেন। এছাড়াও তিনি চীনের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। বর্তমানে জ্যাক মা এর সম্পদের পরিমাণ $51.5 billion। আলিবাবাতে তার ৭.৮% স্টক আছে।
জ্যাক মা ১৯৬৪ সালে পূর্ব চীনের চচিয়াং প্রদেশের হাংচৌ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব ভাল ছিল না। জ্যাক এর বাবা-মা গান গেয়ে বেড়াতেন। জ্যাক মা এর দাদা ছিলেন চীনের জাতীয়তাবাদী দলের একজন স্থানীয় অফিসার। চেয়ারম্যান মাও জাতীয়তাবাদী দলকে হারিয়ে দেবার পরে জ্যাক মা এর দাদাকে কম্যুনিস্ট পার্টির শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
ছাত্র হিসেবে জ্যাক মা নিম্ন মানের ছিলেন। জাতীয় কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় তিনি দুইবার ফেল করেন। তৃতীয়বার পাস করার পরে তিনি হুয়াংঝু টিচার্স ইন্সটিটিউট এ ভর্তি হবার সুযোগ পান। ১৯৮৮ সালে তিনি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। [জ্যাক মা এর জীবন নানা উথান পতনে ভরা যাই হোক আমি আজকের ভিডিওতে জ্যাক মা এর কিছু মূল্যবান উপদেশ যা আমাদের সকলের যানা প্রয়োজন। চলুন শুরু করি।
১। "বর্তমান সময়ের তরুণরা আগামীকালের সমাধান। বর্তমান সময়ের তরুণরা সমস্ত সমস্যার সমাধান। আপনি যদি তাদের সাথে থাকেন তবে আপনিও তাদের মতন কর্মশক্তির চাঞ্চল্য ফিরে পাবেন।
২। তবে আমি তরুণদের যে পরামর্শ দিচ্ছি তা হ'ল আমি নিজেই নিজেকে যে পরামর্শ দেই তা। এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই সহজ নয়। এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই বিনামূল্যে নয়। আপনি যদি সফল হতে চান তবে বিনিময়ে আপনাকে মূল্য দিতে হবে।
৩। আলিবাবা আজ থেকে 18 বছর পূর্বে এত বড় ছিল না, হ্যাঁ আমরা ভাগ্যবান, তবে আমরা কঠোর পরিশ্রম করে আলীবাবাকে এত বড় করেছি। কোনো কিছুই বিনামূল্যে নয়। কোন কিছুই সহজ না। আপনাকে আলাদাভাবে চিন্তা করতে হবে, আপনাকে আলাদাভাবে ভাবতে হবে।
৪। আমার কোম্পানিতে প্রথমদিন গুলির কথা মনে পরে। যখন কোনো নতুন আসলে যদি সবাই বলে 'এটা দারুন, এটা খুব ভালো একটি আইডিয়া'। তখন আমি সেই ধারণাকে রিজেক্ট করে দেই, কারণ সকলেই যদি বলে ভালো, সকলেই যদি বলে তারা এটার উপর কাজ করতে পারবে তবে তা একদম সাধারণ জিনিস হয়ে যায়। যদি এমন কোনো ধারণা আসে যখন সকলেই বলবে এটা ভালো কিন্তু এটা করা সম্ভব নয় এটা খুব কঠিন। তখন আমি সেই আইডিয়ার উপর কাজ শুরু করি। আমি ভাবতে শুরু করি কিভাবে এটিকে অন্যভাবে করতে পারি? যদি আজ এটি খুব কঠিন হয় তবে তবে আগামীকাল আরো কঠিন হবে আর কাজে যদি আপনি ১০০% শ্রম দেন তবে পরশু এটি সহজ হয়ে যাবে। আর এভাবেই আপনি এমন ইউনিক কিছুর জম্ন দিবেন।
৫। আপনি যে সমস্যার মুখোমুখি হন তা হ'ল নিজের প্রশিক্ষণ নিজেকে করা।আপনি যখন আপনার একাডেমিক জীবন থেকে স্নাতক হন, এবং সবেমাত্র আপনার ক্যারিয়ার শুরু করেন। এবং সেখান থেকে সার্টিফিকেট পাবেন সেই সার্টিফিকেট কেবলমাত্র আপনার পিতামাতাদের দেওয়া খরচের বিনিময়সূচক এক শংসাপত্র। আপনার আসল জীবন শুরু হবে একাডেমিক জীবন শেষ করার পর। আপনার জীবনের আসল পরীক্ষা শুরু হয়। এটাই জীবন!
৬। আপনার বয়স যদি ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্য হয় তবে একটি ভালো বস খুঁজন, ভালো কোম্পানি নয়। একজন ভালো বস আপনাকে শিক্ষা দিতে পারে কিভাবে কাজ করতে হয় আর কিভাবে উপরে উঠতে হয়। আপনার বয়স যদি ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্য হয় তবে এখন নিজের জন্য কিছু আলাদা করার চেষ্টা করুন, এমনকিছু যা সম্পন্ন নতুন। আপনার বয়স যদি ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্য হয় তবে যে জিনিসগুলিতে আপনি ভালোভাবে দক্ষ সেগুলিতেই কাজ করুন সেই কাজের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবার চেষ্টা করুন। আপনার বয়স যদি ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্য হয়, তবে নতুন প্রজন্মের তরুণদের সময় দিন। তাদেরকে সমর্থন করুন আপনি তাদের বস, আপনি তাদেরকে উপরে পৌঁছাবার রাস্তা খুঁজে দিন। আপনার বয়স যখন ৬০ বছরের বেশি হবে তখন আপনার নাতি নাতনির সঙ্গে সময় কাটান।
সুতরাং আপনি যখন একাডেমিক জীবনে থাকবেন অন্য কোনো চিন্তা না করে ভালোভাবে পড়াশোনা করবেন ওটাই আপনার কাজ। আবার যেন ভাবেন না কলেজ ছেড়ে দিয়ে বিল গেটস হবেন। বিল গেটস হার্ভার্ড ছেড়ে দিয়েছেন। বিশ্বে একটিমাত্র বিল গেটস রয়েছে। আপনি যদি কলেজ ছেড়ে দেন আপনি বিল গেটস হবেন না, আপনি হবেন আপনি।
